Situation on Neet
Share
প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দিলেন। এটা আগে দিলেই কিন্তু বাচ্চারা এত খেপে যেত না। ওদের ভবিষ্যতে ওদের অধিকার আছে। আমাদের এখানকার বাচ্চারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের মত নয় যে সংসদ থেকে ব্রা আর হাস চুরি করবে। ওরা ওদের অধিকার চাইতে গিয়েছিল। প্রতিবছর নিট পেপার লিক। লোন নিয়ে ওদের মা বাবাদের কোচিং -এ পড়ানো৷ তবে কি শুধু নিট পেপার লিক নিয়েই এর বাড়বাড়ন্ত? উত্তরটা হল, "না"
এর সাথে সিবিএসসির বাচ্চা ও তাদের অভিভাবকরাও ছিলেন। শুধু CBSE র অদ্ভূত খাতা দেখার পদ্ধতির জন্যে কত বাচ্চারা সুইসাইড করেছে। তাদের মা বাবার কাছে তারা তো আর ফিরবে না।
ওরা শিক্ষিত। ও সুবুদ্ধি যুক্তি। ওদের গায়ে লাঠি চার্জ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কারণ ওরা ছাত্র। যে বিবৃতি এখন দিলেন, সেই বিবৃতি মাসখানেক আগে দিলে ওরা এত রাগত না। ওদের অনেকের হয়ত ভোটার কার্ডটাও হয় নি। তাও ওরা আন্দোলন করছে। কারণ ওদের ভবিষ্যতের চিন্তা।
ওদের মার খাওয়া দেখে যারা উল্লাস করলেন, তাদের জন্যে ধিক্কার ছাড়া আর কিছুই কাজ করছে না। কারণ অনেক সময় মুখ বন্ধ রাখাও উচিৎ। সব কিছুকে জাস্টিফাই করতে বসতে নেই। সব কিছুকে জাস্টিফাই করাও যায় না। কোনো রাজনৈতিক দলের অন্ধ ভক্ত হতে নেই। কারণ সব রাজনৈতিক দলেরই প্রচুর ভুলভ্রান্তি আছে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার হাল মারাত্মক খারাপ। দশ লাখ স্কুলে শুধুমাত্র একজন শিক্ষকের ওপর নির্ভর করে স্কুল চলে। এটা আপনি নীতি আয়োগের অফিসিয়াল সাইটে গেলেই পেয়ে যাবেন। ৮৯০০০ স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষক ও ছাত্র নেই বলে। সেই স্কুল আজও খোলে নি। আর এটা আমি ২০২৪-২৫ এর রিপোর্ট বলছি। বর্তমান সংখ্যা বেড়েছে। শিক্ষার হাল এতটা খারাপ যে প্রায় বারো হাজার স্কুলে ছাত্র ছাত্রী নেই, শুধু শিক্ষক আছে। নীতি আয়োগ আমাদের কেন্দ্র সংস্থা।
সরকার বদলানো না বদলানো সেগুলো ভোট বলবে। ওগুলো না তো এই বাচ্চাগুলোর কাজ ছিল, না অন্যদের কাজ। কিন্তু সরকার এগুলো জেনেও যে অ্যাকশন নিচ্ছেন না। সমস্যা এটা। শিক্ষা যেখানে বিনামূল্যে হওয়া উচিৎ, সেখানে শিক্ষা ক্রমশ মহার্ঘ্য হয়ে উঠেছে। আর এর সাথেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কোচিং মাফিয়া, প্রাইভেট স্কুল মাফিয়াদের লাগামছাড়া দৌরাত্ম্য। এই দৌরাত্ম্য এতটাই লাগামছাড়া যে নিটে বসাতে, UPSC, IIT এর এক্সামগুলোতে বসাতে মা বাবাকে লোন নিতে হচ্ছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রিজাইন করালে সমস্যা হয়ত সবটা মিটবে না। কিন্তু সূচনা হোক৷ এডুকেশান মাফিয়াদের লাগাম টানা হোক। খুব দরকার। নাহলে এদের দৌরাত্ম্য দিনের পর দিন বেড়েই যাবে।
অন্যদিকে আরও যেসব আন্দোলন হচ্ছে। যেমন উত্তরাখন্ডের মত শান্ত জায়গা, যাকে দেবভূমি বলা হয়, ওখানে রাস্তা চওড়া করার জন্যে ৪০০০ গাছ কাটা হবে। মানুষেরা গাছ জড়িয়ে আন্দোলন করছে। ওদের কথাও শোনা হোক। বুন্দেলখন্ডের কেন নদীতে যারা শুয়ে চিতা আন্দোলন করছে, তাদের কথাও শোনা হোক। এদের কারো দাবী তো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ না। এদের কারো দাবী গর্ভমেন্ট পাল্টানোও না। প্রতিটা আন্দোলন যখন অরাজনৈতিক, তাদের দাবীগুলো যখন ন্যায্য, তখন সেগুলো শোনা হবে না কেন? মানাই বা হবে না কেন?
তবে এর মাঝে যেসব নাটক হল। সোনাম ওয়াংচুক অনশন করে হাসপাতালে চলে গেলেন। অথচ তারই পাশে বসে CJP মুখপাত্রগুলো জন্মের খাওয়া খেল। এমনই খেল যেন ওই ওদের শেষ খাওয়া। একজন গাড়িতে বসে বার্গার খেতে খেতে ভিডিও বানাল। কোনো প্রয়োজন ছিল না এগুলোর। ওনার পাশে বসে অনশন না করতে পারলেও, অন্তত ওনার সামনে বসে খাওয়াটা চূড়ান্ত অপমানজনক। উনি অনশন না করলে আজকে এতটা আন্দোলন হতই না৷ তো Hat's off to him.. ১৮ দিন অনশন, এই বয়সে অনেক কঠিন। উনি যে জি.ডি. আগরওয়াল বা স্বামী নিগমানন্দের মত আমাদের ছেড়ে চলে যান নি, এটাই অনেক। এই দুজনের ব্যপারে যারা জানেন না ভারতীয় হয়ে, তাদের নর্দমার জলে ডুবে মরা উচিৎ। কারণ মা গঙ্গাও এই দুজন মানুষকে না চিনলে ক্ষমা করবে না। হতে পারে মরার পরে আপনার ভস্মও মা গঙ্গা স্বীকার করলেন না। আপনি ভারতীয় হলে,আপনাকে জি.ডি আগরওয়াল ওরফে স্বামী স্বরূপ সানন্দ এবং স্বামী নিগমানন্দকে চিনতেই হবে।
And finally, রাহুল গান্ধী ঠিকঠাক একটা প্রটেস্টে পার্টিসিপেট করলেন। যেটা ভালো লাগল দেখে। যদিও বাই এনি চান্স ক্ষমতায় এলে উনিও ছড়িয়ে লাটই করবেন। তাও এবার এটা দেখে ভালো লাগল। কারণ বিরোধী কন্ঠ বলিষ্ঠ হওয়া দরকার গণতন্ত্রে। যেটা বর্তমানে নেই। আমাদের একটি বলিষ্ঠ বিরোধী কন্ঠ খুব প্রয়োজন,যেটা বর্তমানে আমাদের কাছে নেই বলেই এত সমস্যা। সেটি থাকলে E20 চালু হওয়ার আগে সংসদে আলোচনা হত। তারপরে চালু হত। আরও অনেক কিছু আলোচনা হওয়ার পরে হত, যেটা ওয়ান সাইড ডিসিশনে হচ্ছে। তাই সরকারে যে থাকুক, বিরোধী বলিষ্ঠ হওয়া আশু প্রয়োজন। সরকারে কে থাকবে সে নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। কোনোদিনই ছিল না। কারণ যার হাতে ক্ষমতা যাবে, সে কিছু গোলমাল তো পাঁকাবে। এটাই নিয়ম। তার সব কাজ যে ভালো হবে তা সম্ভব নয়। আর সেটার জন্যেই বিরোধী থাকে। তাদের নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে জনগণের লাভ হয়। খুব সোজা সমীকরণ।